কিভাবে সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের জন্য করবেন একটি কার্যকরি পরিকল্পনা?

আমাদের অনেকেরই এখন ওয়েবসাইট আছে। এইসব ওয়েবসাইট ব্যবসাসহ আরো নানা বিষয় উপস্থাপন করতে আমরা তৈরি করে থাকি।
কিন্তু সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য পরিকল্পনা, আমরা কয়জনেই বা করি!! ডিজিটাল মাধ্যম এবং অনলাইনে নিজের ব্যবসা হোক, আর প্রতিষ্ঠানই হোক – একটা সুন্দর ও কার্যকরী ওয়েবসাইট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আজকে এই বিষয়েই আলোচনা করা হবে।
প্রথমে আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, “ওয়েবসাইটের জন্য পরিকল্পনা – এ আবার কি জিনিস? কেন-ই বা এটা আমার লাগবে?”
একটা বিল্ডিং বা স্ট্রাকচার তৈরি করার আগে আর্কিটেক্ট যেমন আগে হাতে কলমে একটি সুন্দর প্ল্যান করে নেন, তেমনি একটু সুন্দর ও কার্যকরি ওয়েবসাইটের জন্যও আগে থেকে একটা পরিকল্পনা করা জরুরী। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের ক্রম-বিন্যাসটা কেমন হবে, কি কি থাকবে, কোথায় কি রাখা হবে – এগুলো আগে থেকে ঠিক করে ফেলা হয়।
আপনার ওয়েবসাইটে কি কি পেইজ থাকবে, কনটেন্ট কি কি পরিমাণে দেয়া হবে, কি কি ক্যাটাগরি ও প্রোডাক্ট পেইজ থাকবে – তা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এই প্ল্যানটি আপনাকে শুরু থেকেই সাহায্য করবে এবং দিক নির্দেশনা দিয়ে যাবে।
১ম পদক্ষেপ – আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কিছু আইডিয়া চিন্তাভাবনা করুন।
আপনার ওয়েবসাইটটি আপনি কাদের জন্য বানাবেন এবং তার মেসেজ কি হবে – তার একটা আইডিয়া আপনার ইতিমধ্যে আছে। এখন খুঁজে খুঁজে বের করুন যে আপনার যারা কম্পিটিটর তারা তাদের ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতেছে, কি কি পেইজ সাইটে রেখেছে, কেমনভাবে রেখেছে, কি ধরণের কনটেন্ট দিয়েছে, কিভাবে এর থেকে তারা রেভিনিউ জেনারেট করার চেষ্টা করছে। তারপরে আপনার সহযোগী বা পার্টনারদের সাথে বসুন এবং আলোচনা করুন – ওয়েবসাইটে আপনারা কি কি রাখতে চাচ্ছেন, কি ধরণের কনটেন্ট দিতে চাচ্ছেন। এই আইডিয়াগুলো ছোট ছোট নোট আকারে লিখে ফেলুন। এরপরে এইগুলো নিয়ে নেক্সট স্টেপে যান।
২য় পদক্ষেপ – আইডিয়াগুলোকে একসাথে আলাদা আলাদা গ্রুপে সাজান।
১ম পদক্ষেপে পাওয়া আইডিয়াগুলোকে থিম অনুযায়ী আলাদা আলাদা গ্রুপে সাজিয়ে ফেলুন। হতে পারে এভাবে আপনি আইডিয়াগুলোকে ৪-৭ টি থিমে সাজিয়ে ফেললেন। যেমন হতে পারে প্রোডাক্টের পেইজগুলো, সার্ভিসের পেইজগুলো, ব্লগ/কনটেন্ট এর পেইজ। কিছু কিছু থিমের সাবটপিকও থাকতে পারে।
৩য় পদক্ষেপ – আপনার ওয়েবসাইটের পেইজের আউটলাইন তৈরি করুন।
২য় পদক্ষেপে পাওয়া থিমগুলোকে আলাদা আলাদা পেইজ আকারে ধরে নেয়া যায়। এখন এগুলোকে হাতে কলমে একটা সাদা কাগজে বা ওয়ার্ডফাইলে লিখে ফেলতে হবে যেন এগুলো চোখের সামনে থাকে ও এ নিয়ে আরো চিন্তা করা যায়। ওয়েবসাইটে প্রধানত ৫ থেকে ৭টির বেশি পেইজ থাকা উচিত নয়। এর থেকে বেশি পেইজের প্রয়োজন পড়লে আপনি তা একটি প্রধান পেইজের অন্তর্ভুক্ত করে দিতে পারেন(সাব-পেইজ করে দিতে পারেন)। একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, আপনার ভিজিটররা যা খুঁজছেন, তা যেন ৩বার ক্লিক করার মাঝেই পেয়ে যান। এবং আপনার ভিজিটররা যেন সহজেই হোম পেইজে যেতে পারেন।
৪র্থ পদক্ষেপ – ওয়েবসাইটের পরিকল্পনাটি বিস্তারিত আকারে লিখে ফেলুন ও সাজিয়ে নিন।
এই পর্যায়ে আপনি প্রতিটি পেইজে কি কি থাকবে ও কিভাবে থাকবে, তা পেইজের নামের নিচে লিখে ফেলুন। পেইজগুলো কিভাবে সাজাবেন, কোনটার পাশে কোনটা রাখবেন – তা এবার লিখে ফেলুন। চেষ্টা করুন প্রতিটি পেইজের এক শব্দের নাম দেয়ার, এতে মেন্যুটি সুন্দর ও সাবলীল থাকে। এভাবেই আপনার সাইটের একটা প্ল্যান তৈরি হয়ে যাবে।
এই পরিকল্পনাটিই আপনার ওয়েবসাইটের রোডম্যাপ এবং ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনাটি তৈরি হয়ে গেলে এখন আপনি এখন আপনার মূল সাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন অনেক দ্রুত। কারণ তখন ওয়েবসাইটের কাঠামো নিয়ে আপনাকে আর বেশি চিন্তা করতে হবে না।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *